নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দুই হেভিয়েট বিদ্রোহী প্রার্থীকে ধরাশায়ী করে এমপি নির্বাচিত হলেন বিএনপির মান্নান
প্রকাশঃ
![]() |
| নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে দুই হেভিয়েট বিদ্রোহী প্রার্থীকে ধরাশায়ী করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিপরীতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। নিজ প্রতীকে ন্যুনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিনের।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতিও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিনসহ ৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। পরবর্তীতে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও মো. গিয়াস উদ্দিন। অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বিগত সময়ে বিএনপির মনোনয়নে একাধারে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এছাড়া মো. গিয়াস উদ্দিন বিএনপির মনোনয়নে ২০০১ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ এ দুটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী মাঠে থেকে যাওয়ায় অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও মো. গিয়াস উদ্দিনসহ ২৬ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এদিকে নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিপরীতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট পান। তাছাড়া বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ঘোড়া প্রতীকে ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট ও মো. গিয়াস উদ্দিন ফুটবল প্রতীকে ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাতে হচ্ছে। এই দুই প্রার্থী ছাড়া আরও ৭ প্রতিদন্দ্বী প্রার্থীকে জামানত হারাতে হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মিঠু জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাবেক দুই সংসদ সদস্য নির্বাচনে হেরে শুধু জামানতই হারাননি বরং বিগত সময়ের তাদের সকল অর্জন ম্লান করেছেন।
নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান জানান, তিনি সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে ব্যাপারে কোনো ছাড় দিবেন না। তাছাড়া নির্বাচন পূর্ববর্তী ইশতেহার বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাবেন বলে জানান।
This theme has been developed by OURISLABD.
