শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

সোনারগাঁয়ে হত্যা মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

প্রকাশঃ


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর উত্তর কাজিপাড়া এলাকায় শাওন হত্যা মামলার বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের নারীসহ আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দুটি মোটরসাইকেলসহ বাদী মোতালেবের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ ফারুন নামের এক ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোতালেবের মা সালেহা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর উত্তর কাজিপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা ইসরাফিলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব মিয়ার বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট দুপুরে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন রামদা, লোহার রড, চাপাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে ইসরাফিলের পক্ষের ইসরাফিল, রাব্বী, মো. রিপন, মো. হাসান ও মোতালেবের পক্ষের শাওন, সালেহা বেগম, খুকি আক্তার, জয়নাল আবেদীনসহ ৯ জন আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে শাওনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন সোনারগাঁ থানায় নিহতের বড় ভাই মোতালেব মিয়া বাদী হয়ে ইসরাফিলকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সুযোগে মোতালেবের নেতৃত্বে তার লোকজন আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসে। জামিনে বের হওয়ার পর থেকে নিহতের ভাই মোতালেব ও বাবা আলী আগজর বিভিন্ন সময়ে আসামি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। 
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় বাদী মোতালেব হোসেন আড়াইহাজার থেকে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাঁচজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা করার পাঁয়তারা করেন। সন্ধ্যায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলার বিষয়টি জানতে পেরে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে আসামি পক্ষের লোকজন। একপর্যায়ে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ ফারুক নামের এক সন্ত্রাসীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। পরে আসামিপক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে বাদী মোতালেবের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তারা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সালেহা বেগম, খুকি আক্তার, জুই মনি, মোতালেব মিয়া, আয়নাল হক, শফিকুল ইসলামসহ আটজন আহত হন। 
আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শাওন হত্যা মামলার বাদী মোতালেব হোসেন জানান, তার ভাইকে ইসরাফিলের লোকজন জমি-সংক্রান্ত বিরোধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। আদালত থেকে জামিনে এসে আসামিরা আবার তাদের ওপর হামলা করে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। আসামিপক্ষের গহন আলী জানান, তারা জামিনে আসার পর থেকে তাদের ওপর মোতালেব ও তার বাবা মারধরের চেষ্টা করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে হামলা করে তাদের গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করে। একপর্যায়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে একজনকে পিস্তলসহ গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে মাদক সম্রাট আজগর আলীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আগুন দেয়।
 সোনারগাঁ থানার ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা একজন ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। তার কাছ থেকে পিস্তল, ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ পাহারায় ঢামেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

This theme has been developed by OURISLABD.

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%
Sonargaon Pratidin | সোনারগাঁর সর্বশেষ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন