সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জে নবনির্বাচিত এমপি মান্নান
শিল্পাঞ্চল সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁকে নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে দ্রুত শিল্পায়ন, অন্যদিকে নাগরিক সেবা ও শৃঙ্খলা ঘাটতির অভিযোগ-এই দুই বাস্তবতার মাঝেই শুরু হয়েছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান–এর নতুন পথচলা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনারগাঁ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আবাসিক ও কৃষিনির্ভর এলাকা ধীরে ধীরে শিল্পকেন্দ্রিক অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। এতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হলেও স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ এখনো বেকার। তাদের দাবি, এলাকার শিল্পকারখানায় স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিল্পায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরিবেশগত উদ্বেগও। পানি দূষণ, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং খাল-নদী ভরাট নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ রয়েছে। দখল হওয়া খাল উদ্ধার না করলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ সংকট আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে বৈধ গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি শিল্প ও আবাসিক-দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বলছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হলে শিল্পায়নের সুফল টেকসই হবে না।
স্বাস্থ্যখাতেও রয়েছে চ্যালেঞ্জ। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান ও জনবল সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতিতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শিল্পায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
নাগরিক সেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা ঘাটতি-সড়কের বেহাল দশা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া এই দ্রুত নগরায়ণের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও এই আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করেন, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ২০ হাজার ৪৮২।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জয় নিশ্চিত হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন-যা ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সকল পক্ষের আস্থা অর্জন-এসবই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে শিল্পায়নের গতি, বেকারত্ব নিরসন, চাঁদাবাজি দমন, পরিবেশ সুরক্ষা, দখল হওয়া খাল উদ্ধার, বৈধ গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সেবা শক্তিশালীকরণ-এই ইস্যুগুলো এখন জনআলোচনার কেন্দ্রে। কারণ জনগণ এখন প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব পরিবর্তনই দেখতে চায়।আর এসব প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতার বাস্তব পরীক্ষার মুখে রয়েছেন সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
This theme has been developed by OURISLABD.