সেচের পুকুরে শিশুদের উৎসব, অজানার ভেতর লুকানো ভয়
ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করেন সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগম। ক্যাপশনে লিখেছেন, ভাতিজারা। মাছের চেয়ে গায়ে কাদা মাখানোতেই বেশি আনন্দ।
কিন্তু ছবির বাইরের গল্পটি আরও রোমাঞ্চকর।
রোকসানা বেগম জানান, কাদার নিচে কী আছে-এই ভেবেই তিনি শঙ্কিত ছিলেন। আমি শুধু ভয়ে ছিলাম, কাঁদার নিচে থেকে কিছু লেগে পা কাটে নাকি আবার মাছ ভেবে সাপ ধরে। আশঙ্কাটা অকারণ ছিল না। হঠাৎই এক ভাতিজি কাদার ভেতর থেকে যা ভেবেছিল মাছ-তা ছিল একটি ছোট সাপের বাচ্চা। মুহূর্তেই চমকে সেটি ছেড়ে দেয়। পরে শিশুটির কাকা সাপটিকে ধরে অন্য একটি পুকুরে ছেড়ে দেন।
ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের। কিন্তু সেই মুহূর্তে কাদার পুকুর যেন হয়ে ওঠে এক অদৃশ্য উত্তেজনার মঞ্চ-যেখানে শৈশবের দুঃসাহস আর প্রকৃতির অজানা রহস্য মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়।
গ্রামবাংলায় পুকুর সেচে মাছ ধরা এক পরিচিত দৃশ্য। বর্ষায় ভরা জলাশয় শুকনো মৌসুমে হয়ে ওঠে কাদার মাঠ। বড়দের পাশে ছোটরাও নেমে পড়ে। কারও কাছে এটি বাড়ির রান্নার জন্য মাছ জোগাড়ের উপায়, কারও কাছে নিছক আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও থাকে অদৃশ্য ঝুঁকি-সাপ, ধারালো বস্তু কিংবা কাদার নিচে লুকিয়ে থাকা অন্য বিপদ।
তবু শিশুদের চোখে ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাপ ছেড়ে দেওয়ার পর আবারও তারা নেমে গেছে কাদায়। হাসি, চিৎকার আর মাছের ছটফটানি মিলিয়ে পুকুরপাড়ে তৈরি হয়েছে ছোট্ট এক উৎসব। যেন শৈশবের নিজস্ব ভাষা-যেখানে ভয়ও ক্ষণিকের, আনন্দই স্থায়ী।
রোকসানা বেগম বলেন, ওদের দেখে ভালোও লাগে, আবার ভয়ও লাগে। গ্রামে বড় হওয়া মানেই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা। তবে সাবধানে থাকা জরুরি।
This theme has been developed by OURISLABD.