সোনারগাঁয়ে শতাব্দী প্রাচীন বউ মেলা শুরু
বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন যেন গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।বুধবার দুপুরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীতলা’-যা এখন সবার কাছে ‘বউতলা’-পরিণত হয় ভক্ত আর দর্শনার্থীদের ঢলে। জয়রামপুরসহ আশপাশের গ্রাম থেকে আসা শত শত হিন্দু নারী ঝুড়ি ভরে নিয়ে আসেন মৌসুমি ফল, কবুতর, এমনকি দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গের পাঁঠা। বটগাছের বিশাল ছায়ার নিচে বসে তারা সম্পন্ন করেন বহু প্রজন্মের ধারাবাহিকতায় চলে আসা পূজা-অর্চনা। প্রার্থনা একটাই-স্বামীর ভালোবাসা অটুট থাকুক, সংসারের বন্ধন থাকুক অমলিন। সেই কামনায় নারীরা বটগাছের গোড়ায় মাটি ও দুধ ঢালেন, ছড়িয়ে দেন কড়ি। পূজা শেষে ফলের স্তূপ হয়ে ওঠে প্রসাদ, যা ভাগাভাগি করে নেন সবাই-আনন্দে, বিশ্বাসে।
মেলায় আসা স্মৃতি অর্পূনা দাসের কণ্ঠে শোনা গেল উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ঐতিহ্যের গল্প। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। এখন নিজের সংসারের মঙ্গলের জন্য আমিও সেই নিয়ম মানি। নতুন অংশগ্রহণকারী দেবী দাস ও গীতা রানি দাসও জানালেন, প্রথমবার এসেই তারা প্রার্থনা করেছেন স্বামী-সন্তানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য।
তবে এই মেলার আকর্ষণ শুধু পূজায় সীমাবদ্ধ নয়-চারদিকে ছড়িয়ে আছে গ্রামীণ জীবনের রঙিন স্পন্দন। বাঁশির সুর, কাঠের খেলনার সারি, মাটির তৈজসপত্র, জলচৌকি-আর সঙ্গে খই, কদমা, নিমকি, জিলাপির ঘ্রাণে ভরে উঠেছে পুরো এলাকা। নারীদের নামে হলেও, সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মেলা পেয়েছে সার্বজনীন রূপ।
পূজার পুরোহিত পন্ডিত উৎপল ভট্টাচার্য বলেন, বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে আজকে পহেলা বৈশাখ। এই শুভ দিনে পরিবারের ও স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীরা সিদ্ধেশ্বরী মায়ের আরাধনা করতে এখানে আসেন।
মেলার আয়োজক নিলোৎপল রায় জানান, প্রায় শত বছরের বেশি সময় ধরে এই সার্বজনীন পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত। এলাকার শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।
This theme has been developed by OURISLABD.
