সোনারগাঁ প্রতিদিন
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ না থাকায় ৪৫০ ডায়িং কারখানার উৎপাদন বন্ধ

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

 

ডায়িং থেকে ফেব্রিক্স না পাওয়ায় গার্মেন্টস দুই-তিন দিন বন্ধ রেখে আবার দুদিন পণ্য সেলাই করছে। এভাবে চলতে থাকলে বায়ারদের নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট দিতে পারবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। ডায়িং মালিকরা বলছেন, গত দুদিন ধরে গ্যাসের প্রেসার জিরোতে নেমে এসেছে। যে কারণে ডায়িংয়ে কোনো কাপড় রং করতে পারছে না। প্রতিটি ডায়িং কারখানায় শত শত টন গ্রে কাপড়ের স্তূপ পড়ে আছে। 

নারায়ণগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৪৫০ ডায়িং কারখানা রয়েছে। গ্যাস প্রেসার না থাকায় সব ডায়িংয়ে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শিল্প মালিকদের দাবি- বিকল্প জ্বালানি তুষ, কয়লা বা লাকড়ি দিয়ে বয়লার স্টিম দিয়ে গরম করে উৎপাদনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে ডায়িং কারখানা দুদিন ধরে একেবারে বন্ধ আছে। 

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ডায়িং থেকে কোনো ফেব্রিক্স পাচ্ছি না। গ্যাসের প্রেসার একেবারে শূন্যতে নেমে এসেছে। ফেব্রিক্সের অভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তিনি নিজের ফ্যাক্টরির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ডায়িং থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফেব্রিক্স না পাওয়ায় গত সাত দিন টানা গার্মেন্টস বন্ধ রেখে বুধবার কারখানা খুলেছিলাম। কিন্তু ফেব্রিক্স না থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে আবার কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। শনিবার কারখানা খুলে যদি দুই-তিন দিনে ডায়িং থেকে ফেব্রিক্স পাওয়া যায়, তবে কাপড় শনিবার গার্মেন্টসে উৎপাদন হবে। তবে গ্যাসের যে পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। 


ফজলে এহসান শামীম বলেন, ডায়িং থেকে ফেব্রিক্স না থাকায় নারায়ণগঞ্জে প্রায় শতাধিক গার্মেন্টস কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাহিদা ১৭শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। পাইপলাইনে ন্যাচারাল গ্যাসের চাহিদা ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এলএসজির চাহিদা ৬শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে সরবরাহ তলানিতে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ন্যাচারাল পাইপলাইনে যে গ্যাস আসার কথা, সেটি চাপ কম পাওয়া যাচ্ছে।এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে ফেব্রিক্স ডায়িং করতে না পারায় সুইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং, নিটিং সেকশনের শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুতগতিতে সমাধান চায় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ব্যবসায়ীরা সেই করোনা থেকে একের পর এক ধাক্কা খেতে খেতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। 

সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, গ্যাস সংকটে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন চালু রাখা গেলেও খরচ বাড়ছে কয়েকগুণ। সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও চাপে পড়তে পারে। 

নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সিএনজি পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদা আক্তার বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রায় সবকটি স্টেশনই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আমাদের পাম্পগুলোতে গাড়িতে দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের গ্যাস দিতে পারছি না। দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক না হলে পরিবহণ খাতে সংকট আরও বাড়বে।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন