শিল্পাচার্যের স্মৃতি নিয়ে লোকশিল্প জাদুঘর
তবে পথচলার মাত্র ১৪ মাসের মধ্যেই ১৯৭৬ সালের ২৮ মে পৃথিবীর মায়া ছাড়েন জয়নুল আবেদিন। তখন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। তবে সব প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে জয়নুলের নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি হয়ে ওঠে লোকশিল্পের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। ১৯৮০ সালে পানাম নগরীর সেই ছোট্ট পরিসর থেকে ইছাপাড়া গ্রামের প্রাচীন বড় সরদারবাড়িতে বৃহৎ পরিসরে স্থানাস্তর করা হয় সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরটি। বর্তমানে ১৫০ বিঘা জমি নিয়ে এ লোকশিল্প ফাউন্ডেশনের অবস্থান। যে বছর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মারা যান সে বছরই তিনি তেল রঙে তার বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’ এঁকেছিলেন।
১৯৮০ সালে বড় সরদারবাড়িতে লোকশিল্প জাদুঘরটি স্থানান্তর করার পর এ বাড়ির দক্ষিণ দিকে সংগ্রাম চিত্রকর্মটির আদলে শিল্পী মোহাম্মদ কাইয়ুম সংগ্রাম ভাস্কর্যটি তৈরি করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে উদ্বোধন করা হয় শিল্পাচার্য লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। জাদুঘরটিতে বাংলার লোক-ঐতিহ্যের নানা উপাদান স্থান পেয়েছে। এ জাদুঘরের সামনেই স্থাপন করা হয়েছে ব্রোঞ্জনির্মিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের আবক্ষ ভাস্কর্য। শিল্পাচার্য সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নিয়ে যে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন আজ তা বিরাট বৃক্ষ হয়ে বাংলার বিলুপ্তপ্রায় লোক ও কারুশিল্প আগলে রাখার দায়িত্ব নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা হয়েছে কারুপল্লী, যেখানে কারুশিল্পীদের তৈরি কারুপণ্য বিপণনের ব্যবস্থা রয়েছে। আছে একটি গ্রন্থাগার।
এ ছাড়া কারুশিল্পীদের কারুকর্মে বিশেষ অবদানের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আজীবন সম্মাননা, কারুশিল্পী পদক, কারুশিল্পী উদ্যোক্তা পুরস্কার ও মিডিয়া ফেলোশিপ। প্রতি বছর আয়োজন করা হচ্ছে লোকজ উৎসব। এ উৎসব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে পরিচিত। এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রান্তিক কারুশিল্পী ও লোকশিল্পী অংশ নিয়ে থাকেন। আগামী বছর শিল্পাচার্যের এ প্রাণের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছর পার হবে। গত পঞ্চাশ বছরে এ প্রতিষ্ঠানটি নানা কার্যক্রমে এগিয়ে গেলেও শিল্পাচার্যের একটি স্বপ্ন এখনও অপূর্ণই রয়ে গেছে। শিল্পাচার্য চেয়েছিলেন তার লোক ও কারুশিল্প কমপ্লেক্সে থাকবে কারুশিল্প গ্রাম। যেখানে কারুশিল্পীরা বসবাস করবেন, তাদের কারুপণ্য তৈরি করবেন এবং সেই কারুপণ্য বিক্রি করবেন।
দর্শনার্থীরা সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন কীভাবে এ কর্মযজ্ঞ করা হয়। কিন্তু সেই কারুশিল্প গ্রাম এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ২৯ ডিসেম্বর জয়নুল আবেদিনের ১১১তম জন্মদিন।
এ উপলক্ষে কথা হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, শিল্পাচার্যের জন্মদিনে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’
This theme has been developed by OURISLABD.
