শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

কোরবানির বিধান ও সতর্কতা

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিআর এবং মুসলমানের আর্থিক ইবাদতের একটি বিশেষ অধ্যায়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: ‘তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।’ (সুরা আল-কাউসার: ২)। গ্রহণযোগ্য এক হাদিসে দেখা যায়: ‘আমরা নবীজির (সা.) সঙ্গে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি বললেন: ‘হে মানুষ, প্রতিটি পরিবারের ওপর প্রতিবছর একটি করে কোরবানি করা কর্তব্য।’ (সুনান আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ এবং মুসনাদ আহমদ)। অতএব কোরবানি সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের ওপর ওয়াজিব । 

কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব

প্রতিটি মুসলমান যে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক, মুকিম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক— তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। নিসাব হলো সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য সম্পদ। হজের মুসাফির অবস্থায় থাকলে কোরবানি ওয়াজিব নয়, তবে নফল হিসেবে আদায় করা যায়। পরিবারের প্রতিটি সামর্থ্যবান সদস্যের ওপর আলাদাভাবে ওয়াজিব— একজনের কোরবানি অন্যজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নয়।

কোরবানির সময়সীমা

কোরবানির সময় শুরু হয় ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পরে এবং শেষ হয় ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে। হানাফি মাজহাবে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি করা জায়েজ। তবে ১০ জিলহজ কোরবানি করা সর্বোত্তম, ১১ জিলহজ তার পরের স্তরে এবং ১২ জিলহজ সবচেয়ে শেষে।

গরু দিয়ে ভাগে কোরবানি

আমাদের দেশে গরু ভাগে কোরবানি দেওয়া অত্যন্ত প্রচলিত। ফুকাহাদের মতামত অনুযায়ী একটি গরুতে সর্বোচ্চ সাত ভাগ দেওয়া জায়েজ। প্রতিটি ভাগীদারের নিয়ত শুদ্ধ হওয়া জরুরি— অর্থাৎ প্রতিজনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে কোরবানির নিয়ত করতে হবে। কোনো একজন যদি গোশত খাওয়ার উদ্দেশে শরিক হন, তাহলে অন্য সবার কোরবানি নষ্ট হয়ে যাবে। ভাগের পরিমাণ সমান হওয়া জরুরি নয়, তবে প্রত্যেকের ভাগ কমপক্ষে এক সপ্তমাংশ হতে হবে।

গরুর বয়স ও দাঁতের বিষয়ে ফুকাহারা স্পষ্ট করেছেন যে, গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। বাংলাদেশে প্রচলিত নিয়ম হলো গরুর দুটি স্থায়ী দাঁত গজিয়েছে কিনা তা দেখা— দুটি বড় দাঁত গজানো মানেই বয়স দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ। দুই বছরের কম বয়সি গরু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না, এমনকি সে গরু যত বড় বা মোটা-তাজাই হোক না কেন।

ছাগল দিয়ে একা কোরবানি

ছাগল বা ভেড়া দিয়ে একজনই কোরবানি দিতে পারবেন— ছাগলে ভাগ দেওয়া জায়েজ নয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ছাগলের বয়স কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে। বাংলাদেশে ছাগলের বয়স নির্ধারণে দাঁতের দিকে লক্ষ্য করা হয়— ছাগলের দুটি স্থায়ী সামনের দাঁত গজানো মানেই এক বছর পূর্ণ হওয়ার লক্ষণ। এক বছরের কম বয়সি ছাগল দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে ভেড়ার ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সি ভেড়া যদি এত মোটাতাজা হয় যে এক বছরের মতো দেখায়, তাহলে তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ।

কোরবানির পশুর দোষ-ত্রুটি

যে পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ নয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অন্ধ পশু, এতটাই খোঁড়া যে হাঁটতে পারে না, এতটাই রোগা যে হাড়ে মাংস নেই, কান বা লেজ অর্ধেকের বেশি কাটা, জন্মগতভাবে কান না থাকা। তবে সামান্য খোঁড়া, কানে ছিদ্র বা দাগ থাকলে কোরবানি জায়েজ।


গোশত বণ্টনের বিধান

কোরবানির গোশত তিন ভাগ করা মুস্তাহাব— এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য। তবে পুরো গোশত নিজে রেখে দেওয়াও জায়েজ। কোরবানির চামড়া বিক্রি করে সেই অর্থ নিজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়— তা সদকা করতে হবে বা দ্বীনি কাজে ব্যয় করতে হবে। কসাইকে মজুরি হিসেবে গোশত দেওয়া মাকরুহ, তবে আলাদাভাবে পারিশ্রমিক দিয়ে পরে উপহার হিসেবে গোশত দেওয়া জায়েজ।

কোরবানি কেবল পশু জবাই নয়— এটি আল্লাহ তায়ালার প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের প্রতীক। বাংলাদেশে গরু ভাগে ও ছাগলে একা কোরবানির ক্ষেত্রে বয়স ও দাঁতের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ অযোগ্য পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%
Sonargaon Pratidin | সোনারগাঁর সর্বশেষ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন